ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান এমন মানুষের জন্য নতুন একটি সরকারি সহায়তা প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ (Your First Home) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি কেনার জন্য সরকারি সহায়তায় ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কম ডিপোজিট দিয়েও নতুন বাড়ি কেনা সহজ হতে পারে। দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে অংশ নিতে বাড়ি ক্রেতাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকবে। লন্ডনের বাইরে যেসব বাড়ি কেনা হবে, সেসব ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ১০ হাজার পাউন্ডের কম হতে হবে। আর লন্ডনে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই সীমা হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। আগামী সপ্তাহের বাজেটে এই আয়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পের আওতায় ইংল্যান্ডে অংশগ্রহণকারী বাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নতুন বাড়ি কিনলে বাড়ির মূল্যের ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় ইকুইটি লোন পাওয়া যেতে পারে। ঋণের শুরুতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুদ দিতে হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রেতারা মাত্র ২.৫ শতাংশ ডিপোজিট দিয়েও বাড়ি কেনার সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নিয়ম ও শর্তের ওপর নির্ভর করবে কারা এই সুবিধা পাবেন।
কেন এই উদ্যোগ?
ব্রিটেনে বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় অনেক মধ্যম আয়ের পরিবারের পক্ষে নিজের বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক, নার্সসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত অনেক দম্পতির পক্ষে বড় অঙ্কের ডিপোজিট জোগাড় করা সহজ নয়। সরকারের আশা, নতুন এই প্রকল্প প্রথমবারের ক্রেতাদের বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডে নতুন বাড়ি নির্মাণেও উৎসাহ দেবে। তবে আগের ‘হেল্প টু বাই’ (Help to Buy) প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা ছিল। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের সরকারি সহায়তা বাড়ির চাহিদা ও দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুন প্রকল্পেও বাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপানো হলে নতুন বাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগের প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কী?
কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট জোট সরকারের সময় ২০১৩ সালে ‘হেল্প টু বাই’ প্রকল্প চালু হয়েছিল। সেই প্রকল্পে ক্রেতারা নতুন বাড়ির জন্য ৫ শতাংশ ডিপোজিট দিতে পারতেন এবং বাড়ির মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইকুইটি লোন পেতেন। প্রথম পাঁচ বছর ঋণটি সুদমুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটির নিয়ম পরিবর্তন করে মূলত প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সীমিত করা হয়। ২০২৩ সালে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ‘ইয়োর ফার্স্ট হোম’ প্রকল্পের বিস্তারিত নিয়ম, আবেদনের সময় এবং অন্যান্য শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই বোঝা যাবে কারা এই সুবিধা নিতে পারবেন।
সূত্র: বিবিসি নিউজ ও দ্য টাইমস।


